বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলো খালি করার নির্দেশ বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে, তুঙ্গে চর্চা

Advertisement

এখন তিনি আর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নন। তিনি এখন প্রাক্তন হয়েছেন। শেষ হয়েছে তাঁর চাকরির মেয়াদ। অথচ এখনও তিনি সরকারি বাংলো ছাড়েননি। ভোগ করছেন সেখানের সুযোগ–সুবিধা বলে অভিযোগ। হ্যাঁ, তিনি বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এবার তাঁকে ওই সরকারি বাংলো ছাড়তে বলা হয়েছে। যেহেতু পুলিশ সমন রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন প্রাক্তন উপাচার্য। এই দখল করে রাখা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে অধ্যাপক সংগঠন। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ চক্রবর্তী মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

এদিকে পূর্বিতা খালি করে দেওয়ার কথা বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে। এই নিয়ে আশ্রমিকদের পক্ষ থেকেও আওয়াজ উঠেছে। বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যতদিন উপাচার্য ছিলেন ততদিন নানা বিতর্ক তৈরি করেছেন। অবসর গ্রহণের পর একসপ্তাহ কেটে গিয়েছে। তারপরও বিদ্যুৎ চক্রবর্তী শান্তিনিকেতনের পূর্বিতা বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। এটি সরকারিভাবে উপাচার্যের বাসভবন। বাংলোর পাশাপাশি ব্যবহার করছেন উপাচার্যের সমস্ত সুযোগ সুবিধাও। আর এই নিয়েই বিতর্ক শুরু করেছে। প্রাক্তন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলে খবর। তাতেই উত্তাপ বেড়েছে কবি প্রাঙ্গণে।

অন্যদিকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী–অধ্যাপকদের একাংশের অভিযোগ, প্রাক্তন উপাচার্য মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বিবাদ লাগানোর চেষ্টা করছেন। এখানের আধিকারিকদের সঙ্গেই পূর্বিতায় বৈঠক করছেন নিয়মিত। অধ্যাপক সংগঠন অবশ্য আগেই প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী কেন সরকারি বাংলো ভোগ করছেন?‌ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এখনকার উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিককে ইমেলে অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়ে অধ্যাপক সংগঠনের সভাপতি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌বিশ্বভারতীর ১০ জনের বেশি নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে সমস্তরকমের সুযোগ–সুবিধা প্রাক্তন উপাচার্য নিয়ে চলছেন। যা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ও বেআইনি দখলদারি।’‌

আরও পড়ুন:‌ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ভাগলপুর–জয়নগর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নেপথ্যে কি নাশকতা?‌

এছাড়া প্রাক্তন তকমা লাগতেই পাঁচটি মামলায় বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে তলব করে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। সেই নোটিশের প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তখন নির্দেশ দেন, গ্রেফতারের মতো কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। শুধু একেকটি মামলার জন্য এক ঘণ্টা করে প্রাক্তন উপাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। ২০ এবং ২২ নভেম্বর প্রাক্তন উপাচার্যের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই যুক্তি দিয়েই বাসভবনে বেশ কিছুদিন প্রাক্তন উপাচার্য থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।