BJP Documentary: কেরলে বিবিসি’‌র তথ্যচিত্র দেখাতে বাধা দিল বিজেপি, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ

Advertisement

বিবিসি’‌র তথ‌্যচিত্র ইন্ডিয়া:‌ ‘‌দ‌্য মোদী কোয়েশ্চন’ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় অবস্থা। বিজেপি নেতা–কর্মীরা এটা মেনে নিতে পারছেন না। তাই নানা জায়গায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এটা দেখা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অনেক জায়গায়। এবার আজ, মঙ্গলবার কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে এই তথ্যচিত্র যাতে দেখানো না হয় তার জন্য ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপি কর্মীরা। এমনকী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। তাতে গোটা এলাকায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

গোধরা কাণ্ডের পরবর্তী গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে বিবিসি যে তথ্যচিত্র তৈরি করেছে, ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোয়েশ্চেন’–এর প্রদর্শন এবং সম্প্রচার বন্ধ করতে সক্রিয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। আর সেখানে কেরলের পুজাপুরার মাঠে এই তথ্যচিত্র দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই এই তথ্যচিত্র দেখানোর ব্যবস্থা করে। আর সেখানেই বাধা দেয় বিজেপি কর্মীরা। সেটা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ লেগে যায় বিজেপি কর্মীদের। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান চালায় পুলিশ। তাতে কয়েকজন বিজেপি কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে খবর।

এদিকে ইতিমধ্যেই ওয়াইনারের কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এই তথ্যচিত্র না দেখানো নিয়ে কেদ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌নিষেধাজ্ঞা, দমন এবং ভীতি প্রদর্শন করে সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া যাবে না।’‌ সেখানে আজ কেরলে তথ্যচিত্রটি দেখানোর ব্যবস্থা করলে তাতে বাধা দিতে যান বিজেপি কর্মীরা। তখন তাঁদের পুলিশ বাধা দেন এবং ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। সেই ব্যারিকেড সরিয়ে অশান্তি পাকাতে গেলে পুলিশ জলকামান চালায়। তখন পালাক্কাড় এবং ওয়াইনাড়ে প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ করে।

অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই তথ্যচিত্র ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন রাজ্যের নানা জায়গায় দেখানো হবে। এই ঘটনা নিয়ে যুব কংগ্রেস নেতা অনিল অ্যান্টনি টুইট করে বলেন, ‘‌বিবিসির দীর্ঘদিনের একটা খ্যাতির ইতিহাস আছে। বিজেপি তথ্যচিত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য হওয়ায় নানা দমনপীড়ন শুরু করেছে। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব সংকটের মধ্যে পড়ে।’‌ বিরোধীদের অভিযোগ, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা তুলে ধরার জেরেই কেন্দ্রের কোপে পড়েছে ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোয়েশ্চেন’।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ইউটিউব এবং টুইটারকে বিবিসি’‌র তথ্যচিত্রের লিঙ্ক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তুলে নিতে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। আইটি রুলস ২০২১ সালের জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৫০টির মতো টুইট তুলে নেওয়ার জন্যও কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক নির্দেশ দেয়। বিরোধী দলের নেতারা একে ‘সেন্সরশিপ’ আখ্যা দিয়েছেন। কেন্দ্রের ওই নির্দেশিকার কারণে নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে বিবিসির তথ্যচিত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।