ভারতীয় দলে সুযোগ পেতে ফের বাধ্যতামূলক ইয়ো ইয়ো টেস্ট, দুই কিমি ছুটতে হবে কত জলদি?

Advertisement

ভারতীয় দলে ফের ফিরতে চলেছে ইয়ো ইয়ো টেস্ট। আবার বাধ্যতামূলক হতে চলেছে এই পরীক্ষা। বিরাট কোহলির হাত ধরেই ফিটনেসের জন্য এই পরীক্ষা ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এ বার থেকে দলের ঢোকার ক্ষেত্রে ইয়ো-ইয়ো এবং ডেক্সা টেস্ট করা হবে এবং যাঁরা দলে ঢোকার ব্যাপারে এগিয়ে, তাঁদের এই দু’টি পরীক্ষায় পাশ করে ঢুকতে হবে।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক খারাপ পারফরম্যান্স এবং সেই সঙ্গে চোটের সংখ্যা নিয়মিত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দলে নতুন যাঁরা জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই বিষয়টি শুরুতে বেশ কঠিন হবে। কারণ ইয়ো-ইয়ো টেস্টে ‘পাসিং স্কোর’ অর্জন করা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। ভারতীয় দলে বেশ কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা অতীতে নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফিটনেসের উপরে জোর দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই ভারতীয় দলে ফেরানো হচ্ছে ইয়ো-ইয়ো টেস্ট। এই টেস্টে যাঁরা উত্তীর্ণ হবেন, তাঁরাই দলে সুযোগ পাবেন। পর্যাপ্ত ফিটনেস না থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: বাবর, রিজওয়ানের T20 ক্যারিয়ার তবে শেষ? আফ্রিদির ঠিক করা মাপকাঠিতে চাপ বাড়ল

বিসিসিআই-এর সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুসারে, একজন খেলোয়াড়কে ইয়ো-ইয়ো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ১৬.৫ স্কোর অর্জন করতে হবে। অতীতে, পাসিং স্কোর ছিল ১৬.১।

ইয়ো-ইয়ো টেস্ট হল, খেলোয়াড়দের গতি এবং সহনশীলতা পরীক্ষা করার জন্য ২-কিমি সময়ের সার্কিট ট্রায়াল। নির্বাচনের জন্য উপলব্ধ সমস্ত খেলোয়াড়কে সময়ে সময়ে এই বাধ্যতামূলক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। পরিস্থিতি যেমন দাঁড়িয়েছে, এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে কোনও খেলোয়াড় ভারতীয় দলে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এটাও উল্লেখ্য যে, অন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় ফাস্ট বোলারদের ফিটনেস পরীক্ষা একটু কঠিন। তাদের যা ভূমিকা তার জন্য ফাস্ট বোলারদের অন্য প্লেয়ার যেমন ব্যাটার, স্পিনার এবং উইকেট-রক্ষকদের চেয়ে ভালো সময়ে পরীক্ষা শেষ করতে হয়।

ইয়ো-ইয়ো টেস্টে বেশ কিছু ভারতীয় খেলোয়াড় এর আগে সত্যিই ভালো পারফর্ম করতে পেরেছেন। পিটিআই-এর মতে, মনীশ পাণ্ডে, করুণ নায়ার এবং ময়াঙ্ক ডাগারের মতো খেলোয়াড়রা পরীক্ষায় ১৯-পয়েন্টের বেশিও পেয়েছে। বর্তমান স্কোয়াড থেকে বিরাট কোহলি এমন একজন প্লেয়ার, যিনি ইয়ো-ইয়ো টেস্টে সত্যিই ভালো ফল করেছেন। কোহলি অতীতে ১৯-পয়েন্টও পার করেছিলেন।

আরও পড়ুন: IPL-এর হাত ধরে ফের ক্রিকেটে ফিরছেন সৌরভ, কোন দলে কী পদে যোগ দিচ্ছেন মহারাজ?

এমন কী হার্দিক পাণ্ডিয়াও, এই টেস্ট যখন বাধ্যতামূলক ছিল, তখন সত্যিই ভালো ফল করেছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি যে ফিটনেসের মান বজায় রেখেছেন, তা বিবেচনা করে, হার্দিক আবার পরীক্ষায় অংশ নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

কিন্তু, এটাও সত্যি যে, ভারতীয় দলে ফেরার জন্য অন্যান্য অনেক খেলোয়াড়কে তাদের ফিটনেসের মান বাড়াতে হবে। এই বিষয়ে বিসিসিআই-এর এক কর্তা বলেছেন, ‘এখন থেকে ভারতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে ইয়ো-ইয়ো এবং ডেক্সা টেস্টে উত্তীর্ণ হতেই হবে। যে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিসিআই-এর চুক্তি আছে, তাদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ফিটনেস টেস্টের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপের জন্য যে ২০ জন ক্রিকেটারকে প্রাথমিক ভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তাদের ফিটনেসের দিকে নজর রাখা হবে। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি এই বিষয়ে আইপিএল ফ্র্যাঞ্জাইজিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে।’

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।