চোটে জর্জরিত মাভি ছুটে গিয়েছিলেন দ্রাবিড়ের কাছে- কোচের উপদেশ ভোলেননি GT তারকা – When I got injured again, he said

Advertisement

গত মাসে ঘোষণা করা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে প্রায় পুরোটাই প্রত্যাশিতই ছিল। রোহিত শর্মাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তিনি হাতের বুড়ো আঙুলের চোট থেকে সেরে উঠছেন। বিরাট কোহলিকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। এবং জসপ্রিত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজা চোট সারিয়ে উঠতে পারেননি।

সূর্যকুমার যাদবকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে। এবং হর্ষাল প্যাটেল দলে ফিরেছেন। এই স্কোয়াডে দু’টি বড় চমক হল- ফাস্ট বোলার মুকেশ কুমার এবং শিবম মাভি। ঘরোয়া সার্কিটে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছেন। ইদানীং তারা নজর কেড়েছেন। এমন কী দুই ক্রিকেটারই ২০২৩ আইপিএলের জন্য ভালো মূল্য পেয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরের শেষে নিলামে তাদের বড় অঙ্কে কিনে নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি ক্যাপিটালস মুকেশকে ৫.৫ কোটি দিয়ে দলে নিয়েছে। শিবম মাভিকে আবার গুজরাট টাইটান্স ৬ কোটি দিয়ে দলে নিয়েছে। শিবম মাভি ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। একই স্কোয়াডে মাভির পাশাপাশি শুভমান গিল, পৃথ্বী শ’রাও ছিলেন। তবে মাঝে মাভি একটি চোটের কারণে ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন। তবে ২০২২ সালে ফের দুরন্ত ছন্দে প্রত্যাবর্তন করেন।

আরও পড়ুন: লঙ্কার বিরুদ্ধে ওপেনার কারা,কী হবে একাদশ?টিম বাছতে হিমশিম দশা

বিজয় হাজারে ট্রফিতে সাতটি ম্যাচ খেলে ১৪ উইকেট নেন মাভি। তিনি দশম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে এই টুর্নামেন্ট শেষ করেছিলেন। এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে আরও ১০টি উইকেট নেন। এ বারের আইপিএলে নিলামে গুজরাট তাঁকে ছ’কোটি কিনে নেওয়ায় তিনি রেকর্ড করেন। ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আনক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি নাম লেখান। পাশাপাশি ভারতীয় দলের দরজাও তাঁর জন্য খুলে গিয়েছে।

শিবম মাভি ইএসপিএনক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘যখন আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলি, তখন সাধারণত সঠিক বিশ্রামের জন্য তাড়াতাড়ি বিছানায় শুয়ে পড়ি। কিন্তু সেই দিন, কারণ আমি শুনেছিলাম যে দল ঘোষণা হতে চলেছে, আমি সৌরভ ভাইয়ার (বাঁ-হাতি স্পিনার সৌরভ কুমার) ঘরে সমর্থের (সিং) সঙ্গে বসে ছিলাম। যখন আমি আমার নির্বাচনের কথা জানলাম, তখন সেকেন্ডের জন্য আমার চারদিকে সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটি একটি অদ্ভূত অনুভূতি ছিল। আমি আবেগপ্রবণ ছিলাম, কিন্তু আমি জানতাম যে, আমার সময় এসেছে।’

আরও পড়ুন: WC জয়ের চেয়ে বড় লক্ষ্য কিছু হতে পারে না- নতুন বছরের সংকল্পের কথা বললেন হার্দিক

এর আগে মাভির এসিএল চোট, দু’টি স্ট্রেস ফ্র্যাকচার- সব মিলিয়ে তিনি প্রায় এক বছরের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন। তবে সুস্থ হয়ে ২২ গজে ফেরার পর শিবম মাভিকে বলের গতি কমাতে হয়েছিল। আগে তিনি নিয়মিত ১৪০-এ বল করতেন। তবে পুরনো কথা বা কোনও খারাপ অভিজ্ঞতা মনে না রেখে, ২৪ বছরের তারকা ইতিবাচক থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমন কী তিনি ভারতের প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেকে মোটিভেট করেছিলেন। সেই সময়ে বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমীর প্রধান ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। আর এনসিএ-তে মাভি রিহ্যাবের জন্য গিয়েছিলেন।

শিবম মাভি বলেছেন, ‘আমি সব সময়েই মানসিক ভাবে বেশ দৃঢ় ছিলাম। আমি বরাবর যা শিখে এসেছি, সেটা হল চোট খেলারই অঙ্গ। যখন সব কিছু ঠিকঠাক চলে, তখন ইতিবাচক থাকাটা সহজ। কিন্তু যখন চোট লাগে, তখনও ইতিবাচক মানসিকতা রাখাটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু এইটুকুই নিজেকে মনে করাতাম।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘যখন আমি দ্বিতীয় বার চোট পেয়েছিলাম, আমি এনসিএতে ছিলাম এবং রাহুল [দ্রাবিড়] স্যারও সেখানে ছিলেন। বারবার চোটের কারণে আমি চাপের মধ্যে ছিলাম। তখনই আমি তাঁর পরামর্শ চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, শুধু খেলার মাঠেই আমাকে পুরো ফোকাস রাখতে। চোট আসবে এবং যাবে। কিন্তু সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।