Supreme Court on Demonitisation: নোটবাতিল নিয়ে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট, মোদীর ঘোষণা নিয়ে কী বলল আদালত?

Advertisement

ছ’বছর আগের নোটবাতিলের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আনুপাতিকতার ভিত্তিতে বিমুদ্রাকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করা যাবে না। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কেবলমাত্র কেন্দ্র নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই তা বাতিল করা যায় না। প্রসঙ্গত, মামলাকারীদের আইনজীবী পি চিদরম্বম দাবি করেছিলেন, নোট বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরবিআই-এর পরামর্শ নিতে হয় কেন্দ্রকে। তবে এই ক্ষেত্রে নাকি আরবিআই-এর সঙ্গে কেন্দ্রের বৈঠকের যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সুপ্রিম রায়ে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ করেছে শীর্ষ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ৮ তারিখ সন্ধ্যায় দেশের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ১০০০ টাকা এবং ৫০০ টাকার নোট বাতিল করার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ৫৮টি মামলা রুজু হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই সব মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল গতবছর। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ আবদুল নাজিরের নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে কেন্দ্রের নোট বাতিল সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলে। বেঞ্চে আরও ছিলেন – বিচারপতি বিআর গাভাই, বিচারপতি এএস বোপান্না, বিচারপতি ভি রামাসুব্রাহ্মাণিয়ান এবং বিচারপতি বিভি নাগারত্না। সেই সব মামলার প্রেক্ষিতে আজ রায়দান করল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত, নোট বাতিলের সময় ১৭.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের নোট ছিল বাজারে। এর মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের মূল্য ছিল ১৫.৪৪ লক্ষ কোটি টাকা। সেই টাকার ৯৮.৯ শতাংশ বা ১৫.৩১ লক্ষ কোটি টাকার নোটই ফিরে আসে ব্যাঙ্কগুলির কাছে। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ১০০০ টাকা এবং ৫০০ টাকার নোট রাতারাতি বাতিল করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কালো টাকা রোধ করতেই সেই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সরকারের সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। এর প্রেক্ষিতে আরবিআই এবং কেন্দ্রের থেকে হলফনামা চেয়েছিল শীর্ষ আদালত।

হলফনামায় কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছিল, নোট বাতিলের কারণে জনসাধারণের কষ্ট হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারের ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলকে ত্রুটিপূর্ণ বলা যেতে পারে না। এর পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে, পুরনো নোট বদল করার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়নি।

এদিকে পিটিশন জমা দেওয়া এক আবেদনকারীর দাবি ছিল, নোট বাতিলের সময়ে তিনি বিদেশে ছিলেন। এদিকে তাঁর বাড়িতে অনেক নগদ টাকা ছিল। তাঁর দেশে ফিরতে ফিরতে দেরি হয়ে যায়। ফলে ৫০০ এবং ১,০০০ টাকার নোট আর বদল করতে পারেননি তিনি। তাঁর বদল করা হয়নি। এখন এই টাকা নিয়ে তিনি কী করবেন?

 

 

 

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।