FIFA World Cup Qatar: কাতার বিশ্বকাপের ‘বলি’ কতজন শ্রমিক? অবিশ্বাস্য সংখ্যাটা জানলে চোখে জল আসতে বাধ্য

Advertisement

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম গড়ে তোলার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়েছে কাতার। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকাংশই নেপাল, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান বা ফিলিপিন্সের। এই আবহে কাতারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড নিয়ে সরব হয়েছে বহু দেশ। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে কাতার বিশ্বকাপে ‘বলি’ শ্রমিকদের সংখ্যা। ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতারে ৫০ শতাংশেরও বেশি বিদেশির বাস। সেই দেশে ভারতীয় থাকেন সবথেকে বেশি। এহেন কাতারে বিগত কয়েক বছরে বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম তৈরি করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫০০ পরিযায়ী শ্রমিক। এমনই দাবি ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর। যদিও আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের দাবি, গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এই সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’র ঘটনাও।

অ্যামনেস্টি রিয়েলিটি চেক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিগত বছরগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা লুকিয়ে রেখেছে কাতার। এদের মধ্যে অধিকাংশই দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দা। যদিও কাতারি প্রশাসনের দাবি, মাত্র ৩৫ জন শ্রমিক মারা গিয়েছে বিগত বছরগুলিতে। অভিযোগ, অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকেই ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে কাতারে। এর ফলে শ্রমিকের পরিবারকে কোনও ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না কাতারকে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কাতারে পা রাখতেই তাঁদের থেকে পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের ছোট একটা ঘরে আরও ৫-৬ জনের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হয়। তাঁদেরকে দিয়ে আরবি ভাষায় লেখা চুক্তি সই করানো হয়, যার মাথামুণ্ড তাঁরা কিছুই বোঝেননি।

বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহার কাছেই একটি ‘জোন’ রয়েছে, যেখানে প্রায় বন্দিদের মতো বাস করতে হয় পরিযায়ী শ্রমিকদের। একাধিক স্বাধীন সাংবাদিক নেপাল এবং বাংলাদেশে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কষ্টের কথা সামনে এনেছে। এই আবহে ১০টি ইউরোপীয় দেশ ফিফাকে চিঠি লিখে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি এই অমানবিকতার ইস্যু উত্থাপন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ফিফা আছে ফিফাতেই। দুর্নীতির কালো ছায়ার মাঝে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আয়োজক দেশের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। শতাধিক বছর আগের দাসত্ব প্রথার উল্লেখ করে তিনি পালটা পশ্চিমী দেশগুলিকে তোপ দেগেছেন। তবে যাঁরা প্রাণ হারালেন, তাঁদের পরিবারের এখন কী হবে? খাতায় কলমে কাতার ‘সংস্কার’ এনেছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, পরিস্থিতি আগের মতোই আছে।

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।