Taliban lashing people: সোশ্যাল মিডিয়ায় আমন্ত্রণ! ভরা স্টেডিয়ামে ৩ মহিলা-সহ ১২ জনকে বেত মারল তালিবান

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারপর নির্ঘণ্ট মেনে আফগানিস্তানের একটি স্টেডিয়ামে শয়ে-শয়ে মানুষের সামনে তিন মহিলা এবং ন’জন পুরুষকে চাবুক মারল তালিবান। যে ঘটনার জেরে আফগানিস্তানে তালিবানি শাসনের ফের কালো অধ্যায় ফিরে এসেছে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন অনেকে।

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের অনুযায়ী, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দক্ষিণ লোগার প্রদেশে সেই ঘটনা ঘটেছে। চাবুক মারার ঘটনার সাক্ষী থাকার জন্য গভর্নরের কার্যালয় থেকে লোগারের পুল আলম স্টেডিয়ামে ‘সম্মানীয় উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি, মুজাহিদিন, বয়স্ক, আদিবাসী নেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের’ উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সকাল ন’টার সেই ‘অনুষ্ঠানের’ (চাবুক মারার ঘটনার) জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল।

নাম গোপন রাখার শর্তে গভর্নরের কার্যালয়ের এক আধিকারিককে (সংবাদমাধ্যমকে কোনও তথ্য জানানোর নিয়ম নেই ওই ব্যক্তির) উদ্ধৃত করে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থানীয় আদালতে চুরি এবং ব্যভিচারের দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় ওই ১২ জনকে ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামের শয়ে-শয়ে মানুষের সামনে তাঁদের প্রত্যেককে ২১ থেকে ৩৯ বার চাবুক মারা হয়। কোনওরকম ছবি তোলা বা ভিডিয়ো করার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: Afghanistan: বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি, ১৯ জনকে প্রকাশ্যে ৩৯ বার বেত্রাঘাত করল তালিবান সরকার

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবানি শাসনের প্রথম দফায় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড, পাথর ছুড়ে মেরে ফেলার মতো চাবুক মারার ঘটনা হামেশাই ঘটত। পরবর্তীতে মার্কিন সেনার অভিযানে আফগানিস্তানে তালিবানি শাসনের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরে আসার সঙ্গে-সঙ্গেই আবারও ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান। গত বছরের অগস্টে কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর মহিলা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকারের উদারপন্থী হওয়ার বার্তা দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: মহিলাদের মুখ ঢেকে খবর পড়ার নির্দেশ তালিবানের, প্রতিবাদ পুরুষ সাংবাদিকদের

যদিও বাস্তবে সীমাহীনভাবে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মেয়েদের যেমন ষষ্ঠ শ্রেণির পর পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চাবুক মারার ঘটনাও ঘটছে। সরকারিভাবে চাবুক মারার যে ঘটনার কথা স্বীকার করা হয়েছে, তা ঘটেছিল ১১ নভেম্বর। চুরি, ব্যভিচার এবং বাড়ি থেকে পালানোর অভিযোগে ১৯ জনকে চাবুক দিয়ে মারা হয়েছিল। প্রত্যেককে ৩৯ বার মারা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে। এবারের ঘটনার পর লোগারের ডেপুটি গভর্নর এনায়েতুল্লাহ শুজা বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে যে সব সমস্যা আছে, তা সমাধানের একমাত্র উপায় হল শরিয়ত আইন।’

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।