FIFA World Cup 2022: কী এই ‘ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ড? কেন ফিফা নিষিদ্ধ করল এটাকে?

Advertisement

শুভব্রত মুখার্জি

কাতার বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিতর্ক কিন্তু চরমে। মাঠে বিয়ার পানে নিষেধাজ্ঞা থেকে চুমু খাওয়া বারণ- সবেতেই শিরোনামে কাতার বিশ্বকাপ। তবে যে বিষয়টি নিয়ে সব থেকে বড় বিতর্ক হয়েছে, তা হল একটি বিশেষ ধরনের আর্মব্যান্ড। আর এই আর্মব্যান্ডের পোশাকি নাম ‘ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ড। কাতারের আইন অনুযায়ী, সেই দেশে সমকামীতা নিষিদ্ধ। আর সেই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই ‘ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ডের ব্যবহারের সিদ্ধান্ত। স্থানীয় আইনের প্যাঁচে যাতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা ফুটবলাররা ঝামেলায় না পড়েন, সেই কারণেই একে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ফিফার তরফে।

আরও পড়ুন: কাতার প্রশাসনের নির্দেশ চুলোয়, বান্ধবীকে চুম্বন করে বিপদ ডাকলেন বেলজিয়াম কিপার?

প্রসঙ্গত, ‘রয়্যাল ডাচ ফুটবল ফেডারেশনের’ তরফে ২০২০ সালে এই ‘ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ডটি প্রকাশ করা হয়েছিল। যে কোনও ধরনের বৈষম্য বিশেষ করে ‘সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন’ নিয়ে হওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ব্যবহার করা হয় এই আর্মব্যান্ডের। হার্ট অর্থাৎ হৃদয়ের ছবি আঁকা থাকে এই আর্মব্যান্ডে। যাতে রয়েছে রামধনুর রঙ। যেখানে মাঝে লেখা থাকবে ‘ওয়ান’ নম্বরটি। যার দুই দিকেই লেখা থাকবে ‘ওয়ানলাভ’ এবং ‘ফুটবল কানেক্ট’ অর্থাৎ ফুটবল সবাইকে যুক্ত করে।

কাতারে এই স্পেশ্যাল আর্মব্যান্ডটি প্রথমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ৭টি দেশের ফুটবল অধিনায়কেরা। নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ওয়েলস, ডেনমার্ক এবং জার্মানি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই আর্মব্যান্ড পরার। কিন্তু ফিফার চোখ রাঙানির কারণে আর তা সম্ভব হয়নি। ফিফার তরফে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে সরাসরি সতর্ক করা হয় কাতারের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে তাঁর। এমন কী হলুদ কার্ড দেখানোর কথাও বলা হয় এই আর্মব্যান্ড পরলে।

আরও পড়ুন: শুধু জার্মানিকে হারানো নয়,ড্রেসিংরুম-গ্যালারি নিজেরা পরিষ্কার করে মন জিতল জাপান

ফিফার আইন অনুযায়ী, ম্যাচে এমন কিছু পরা বা করা যাবে না, যাতে তা রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত বার্তাবাহক হবে। পাশাপাশি ফিফার আইন অনুযায়ী, যে আর্মব্যান্ড ফিফার তরফে দেওয়া হবে সেই আর্মব্যান্ডকেই পরতে হবে। উল্লেখ্য, জার্মানি দল এর বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে ফটোসেশনে নিজেদের মুখ টিপে অনন্য প্রতিবাদ জানিয়েছিল। জার্মান রাজনীতিবিদ ন্যান্সি ফ্রেসার কৌশলি ভাবে ম্যাচ চলাকালীন প্রতিবাদ দেখান। তিনি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে একটি লাল ব্লেজার পরে এসে বসেন। যার নিচে লুকানো ছিল ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ডটি। ম্যাচ শুরু হলে তিনি নিজের সেই লাল ব্লেজার খুলে দেন। ফলে দৃশ্যমান হয়ে যায় তাঁর ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ডটি। আর এ ভাবেই অভিনব প্রতিবাদ জানান তিনিও।

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।