Bankura: রেশন কার্ডে পদবীতে দত্তর বদলে ‘কুত্তা’! BDO-র সামনে ঘেউ ঘেউ করে প্রতিবাদ

Advertisement

দুয়ারে সরকারের শিবিরে জয়েন্ট বিডিওর গাড়ি আটকে জানলার কাঁচ বেয়ে একজন একটানা ঘেউ ঘেউ করে চলেছেন। ব্যক্তির এরকম আচরণ দেখে হতচকিয়ে যান জয়েন্ট বিডিও থেকে শুরু করে সকলে। তবে পরে বোঝা যায় প্রকৃত ঘটনা। আসলে ওই ব্যক্তির নাম শ্রীকান্তি কুমার দত্ত। রেশন কার্ডে তাঁর নাম আর পদবীর বানান ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু, রেশন কার্ড সংশোধন হলেও তাঁর পদবীতে দত্তর পরিবর্তে লেখা রয়েছে ‘কুত্তা’। তাই প্রতিবাদ জানাতেই এরকম আচরণ করেন ওই ব্যক্তি। অবশেষে প্রতিবাদে কাজ হল। সংশোধন হল ওই ব্যক্তির রেশন কার্ড। এমনই ঘটনা বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের।

পেশায় ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তিকে রেশন কার্ডের নাম এবং পদবী ভুল নিয়ে বারবার নাকাল হতে হচ্ছিল। ভুল সংশোধনের জন্য তিনি একাধিকবার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। প্রতিবারই কোনও না কোনও ভুল থেকে যায়। ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০১৫ সালে। ওই বছর তিনি ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন রেশন কার্ড হাতে পেলে তিনি দেখেন তাতে লেখা রয়েছে শ্রীকান্তি মণ্ডল। 

ভুল পদবী সংশোধনের জন্য আবার তিনি আবেদন করেন কিন্তু তারপরেও তার নাম আসে শ্রীকান্ত দত্ত। এরপর আবারও দুয়ারে সরকারে গিয়ে তিনি নাম সংশোধনের জন্য আবেদন জানান। গত ১১ নভেম্বর রেশন কার্ড ডাউনলোড করে দেখতে পারেন সেখানে তার নাম ঠিক থাকলেও পদবীতে দত্তর পরিবর্তে লেখা রয়েছে ‘কুত্তা’। এরপরেই মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হন বাঁকুড়ার কেশিয়াকোল গ্রামের বাসিন্দা শ্রীকান্তি। পদবী সংশোধনের জন্য ১৬ নভেম্বর আবার তিনি দুয়ারে সরকারের শিবিরে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান গাড়িতে বসে রয়েছেন জয়েন্ট বি। আর তখনই অভিনব প্রতিবাদ করার কথা মাথায় আসে শ্রীকান্তির।

তাঁর প্রতিবাদের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মাধ্যমে। অবশ্য প্রতিবাদে কাজ হয়েছে। জয়েন্ট বিডিও বিমান কর শ্রীকান্তিকে সঙ্গে নিয়ে দুয়ারে সরকার শিবিরে যান। সেখান তিনি আধিকারিক এবং অন্যান্য কর্মীদের অবিলম্বে ভুল সংশোধনের নির্দেশ দেন। সূত্রের খবর তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত রেশন কার্ড ডাউনলোডও করেছেন শ্রীকান্তি। তবে নাম ও পদবীর ভুল সংশোধনের জন্য তাঁকে যেভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তার জন্য কড়া সমালোচনা করেছেন শ্রীকান্তি।

তাঁর কথায়, ‘কোনও মানুষের পক্ষে সমস্ত কাজ ফেলে বারবার দুয়ারে সরকারের শিবিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া শিবিরে বারবার গিয়েও কাজ হচ্ছে না। সরকার যখন আমাকে লিখিত ভাবে ‘কুত্তা’ পদবি দিয়েছে। তাই আমি এরকমভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাতেই কাজ হয়েছে। রেশন কার্ড সংশোধন হয়েছে।’

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।