ধৈর্য হারিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে ফেলছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ: বিকাশরঞ্জন

Advertisement

ধৈর্য হারিয়ে আলটপকা মন্তব্য করে আসলে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে ফেলছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে SSC শারীরশিক্ষা – কর্মশিক্ষার প্রার্থীদের বিক্ষোভকে এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের প্রধান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

শনিবার সন্ধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হল সরকারের প্রাথমিক কাজ। এই সরকার সেটা করেনি। এই সরকার দুর্নীতি করেছে যার ফলে মানুষের মনে একটা বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তাদের নিয়োগ দিতে রাজ্য সরকার আরেকটা বেআইনি কাজ করতে চাইছে। সেটা হল হঠাৎ করে ৫,০০০ এর মতো সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরি করেছে তারা। সাধারণ মানুষের করের টাকায় এভাবে সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরি করা যায় না। সেই পদগুলিতে ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগের চেষ্টা হচ্ছে’।

বিকাশবাবুর ব্যাখ্যা, ‘কিন্তু আইন বলছে, ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীরা তখনই নিয়োগ পেতে পারেন যদি মেধাতালিকায় নাম থাকা কেউ চাকরি না নেন। এর বাইরে কোনও নতুন পদ তৈরি হলে তার ওপর সমস্ত চাকরিপ্রার্থীর অধিকার সমান। সেক্ষেত্রে ওয়েটিং লিস্টের আর প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। যারা মামলা করেছেন তারা আইনি প্রক্রিয়ায় মেধাভিত্তিক নিয়োগ চাইছেন’।

বিকাশবাবুর মতে, ‘কিছু কিছু মানুষ ভাবছেন আমরা এই ফাঁকতালে চাকরি পেয়ে যেতাম। কিন্তু যেটা হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ বেআইনি কাজের সুযোগ না পেয়ে আমার ওপর রাগ করলে কিছু করার নেই। তাদের রাগ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে’।

তিনি আরও বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের মনে রাখা উচিত, সরকার তাদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য পদ তৈরি করেননি। পদ তৈরি করেছেন বেআইনিভাবে নিযুক্তদের চাকরি বাঁচাতে। বেআইনিভাবে নিযুক্তদের সনাক্ত করে বরখাস্ত করা গেলে সেখানে নিয়ম মেনেই চাকরি পাবেন ওয়েটিং লিস্টের প্রার্থীরা।

তাঁর সাবধানবাণী, ‘সরকারের তৈরি পদে এখন যদি কেউ নিয়োগ পেয়েও যান পরে তা নিয়ে আদালতে মামলা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে বেআইনি ভাবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের যে পরিণতি হয়েছে, তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে’।

 

Advertisement

Malek

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।